Friday, August 31, 2018

মার্স সংক্রমণ: হজ ফেরত হাজিদের জন্য সতর্কতা

মার্স সংক্রমণ: হজ ফেরত হাজিদের জন্য সতর্কতা
মার্স সংক্রমণ: হজ ফেরত হাজিদের জন্য সতর্কতা


এ বছর প্রায় সোয়া লাখ বাংলাদেশি হাজি পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোয় মার্স-কোভি (MERS-CoV) বা মিডল-ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রয়েছে। ২০১২ সালে প্রথম সৌদি আরবে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়।

উট থেকে সাধারণত মানুষের দেহে মার্স-কোভির সংক্রমণ ঘটে। আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এলে অন্য ব্যক্তিরও সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই ভাইরাস মানবদেহের শ্বাসতন্ত্রকে আক্রমণ করে। সামান্য সর্দি-জ্বর থেকে শুরু করে সার্স বা সিস্টেমিক ইনফ্লেমেটরি রেসপন্স সিনড্রোমের মতো মারাত্মক সমস্যা তৈরি করতে পারে এটি। সার্সে আক্রান্ত হলে কিডনি, ফুসফুসসহ বিভিন্ন অঙ্গ অকেজো পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।

মার্স-কোভির সংক্রমণের উপসর্গ হলো আক্রান্ত ব্যক্তির সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয় রোগী। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডায়রিয়াও হতে পারে। অত্যন্ত বয়স্ক বা ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা, দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জটিলতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ক্ষেত্রে প্রায় ৩৫ শতাংশ রোগীর মৃত্যুঝুঁকি দেখা দেয়।

চিকিৎসা ও প্রতিরোধ: এ রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা ও টিকা নেই। রোগীর উপসর্গ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাই এর প্রতিরোধ ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হজ থেকে ফেরার দুই সপ্তাহের মধ্যে কোনো হাজির জ্বর, সর্দি-কাশি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে নিকটস্থ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সন্দেহজনক আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ডা. এ হাসনাত শাহীন, মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ, ইমপালস হাসপাতাল, তেজগাঁও, ঢাকা
Previous Post
Next Post
Related Posts

0 comments: